বিষবিজ্ঞানী ডঃ ইভন বুরকার্ট, আমাদের দৈনন্দিন গ্রহণ করা মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবস্থাপনায় অন্ত্রের জীবাণুর ভূমিকা সম্পর্কে ২০২৫ সালের সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল বর্ণনা করেছেন।
মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার সমস্যা: গড়ে, আমরা প্রতি সপ্তাহে বিভিন্ন উৎস (পানীয় জল, খাবার, বাতাস) থেকে প্রায় ৪ গ্রাম মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণ করি, যা আমাদের শরীর ভাঙতে পারে না। এগুলো রক্ত, ফুসফুস, প্ল্যাসেন্টা এবং এমনকি ডিম্বাশয়ের ফলিকুলার ফ্লুইডের মতো বিভিন্ন অঙ্গে জমা হতে পারে।
নতুন গবেষণা: জীবাণু প্লাস্টিক দূর করতে সাহায্য করে: ইঁদুরের উপর করা গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়ার দুটি স্ট্রেইন, ল্যাকটোব্যাসিলাস কেসি এবং ল্যাকটোব্যাসিলাস প্ল্যান্টারাম-এর হাইড্রোফোবিক বাইন্ডিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মলের মাধ্যমে প্লাস্টিক নির্গমনের হার ৩৪% পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয় এবং পরিপাকতন্ত্রে এর অবশিষ্টাংশ ৬৭% পর্যন্ত কমিয়ে দেয়।
অন্ত্রের স্বাস্থ্যের গুরুত্ব: অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য এবং একটি শক্তিশালী অন্ত্রের প্রাচীর বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অন্ত্রে প্রদাহ হলে বা 'লিকি গাট' (leaky gut) থাকলে, প্লাস্টিক সহজেই রক্তপ্রবাহে মিশে যেতে পারে। যে কারণগুলো এই অণুজীবগুলোকে ধ্বংস করে, তার মধ্যে রয়েছে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং জমে থাকা মানসিক চাপ।
অবিলম্বে গ্রহণ করার মতো তিনটি পদক্ষেপ:
১. প্লাস্টিকের উৎস কমান: প্লাস্টিকের পাত্রে খাবার মাইক্রোওয়েভ করা, প্লাস্টিকের টি-ব্যাগ এবং প্লাস্টিকের বোতলের পানি পরিহার করুন।
২. গাঁজানো খাবার খান: উপকারী অণুজীবের সংখ্যা বাড়াতে দই, কেফির, কিমচি, সাওয়ারক্রাউট এবং মিসোর মতো প্রাকৃতিক প্রোবায়োটিকযুক্ত খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন।
৩. আপনার অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম বজায় রাখুন: উপকারী অণুজীবের সংখ্যা রক্ষা করার জন্য অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন।
ভিডিওতে যেমন ব্যাখ্যা করা হয়েছে, কিছু প্রোবায়োটিক অণুজীবের এমন কিছু কৌশল রয়েছে যা শরীর থেকে মাইক্রোপ্লাস্টিক অপসারণে সাহায্য করে:
হাইড্রোফোবিক বাইন্ডিং: গবেষণায় শনাক্ত হওয়া দুটি প্রোবায়োটিক স্ট্রেইন, ল্যাকটোব্যাসিলাস কেসি এবং ল্যাকটোব্যাসিলাস প্ল্যান্টারাম-এর কোষের পৃষ্ঠে এমন রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা মাইক্রোপ্লাস্টিক কণাকে আকর্ষণ করে এবং তাদের সাথে আবদ্ধ হতে পারে।
জমাট বাঁধা: যখন ব্যাকটেরিয়া মাইক্রোপ্লাস্টিকের সাথে আবদ্ধ হয়, তখন তারা সেগুলোকে একসাথে জমাট বাঁধিয়ে বড় পিণ্ড তৈরি করে। এর ফলে এই কণাগুলোর পক্ষে অন্ত্রের প্রাচীর ভেদ করে রক্তপ্রবাহে শোষিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
রেচন: একবার প্লাস্টিক ব্যাকটেরিয়ার সাথে আবদ্ধ হয়ে গেলে, শরীর এই কণাগুলোকে মলের মাধ্যমে আরও সহজে বের করে দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, এটি মাইক্রোপ্লাস্টিক রেচনের হার ৩৪% পর্যন্ত বাড়াতে পারে এবং পরিপাকতন্ত্রে এর অবশিষ্ট পরিমাণ ৬৭% পর্যন্ত কমাতে পারে।
এছাড়াও, প্রোবায়োটিক মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার কারণে অন্ত্রে সৃষ্ট প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে, যার ফলে অন্ত্রের আস্তরণ সুস্থ থাকে এবং লিকি গাট সিনড্রোম কমে।
No comments:
Post a Comment